- ০২ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অর্থের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে করে যেসব প্রতিষ্ঠান একীভূত ব্যাংকগুলোতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে, তারা আপাতত আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবে।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এসব ব্যাংককে একটি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ এসব একীভূত ব্যাংকে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে একটি ইসলামী ব্যাংকেরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।
শুরুর দিকে আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পর্যালোচনা করে জানায়, এ ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভিশন বাধ্যতামূলক নয়। কারণ এই অর্থ একটি বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হয় সরাসরি অর্থ ফেরত পাবে, অথবা দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) কিংবা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য পেতে পারে।
তবে খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক চাপ কমলেও দীর্ঘমেয়াদে আটকে থাকা অর্থ পুরোপুরি উদ্ধার করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।