- ১৮ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ অক্টোবর। নিজ নিজ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর ৪ অক্টোবর তাদের কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে। এরপর নতুন শিক্ষকদের দুই মাসের বিশেষ পেশাগত প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রশিক্ষণ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ, ধরন, পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) একটি বিশেষ নীতিমালা তৈরি করছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, নতুন শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ চাকরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের পর দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা চলছে। তবে এর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণের মেয়াদ দুই মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানে যুক্ত হতে পারবেন।
নতুন শিক্ষকদের পদায়নের দিন থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে নিয়োগ বাতিল হবে কি না এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ১ অক্টোবর যোগদানের পর ৪ অক্টোবর নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে। তবে প্রশিক্ষণের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে, এটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মতো দীর্ঘমেয়াদি নয়। বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই মাসের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিপুলসংখ্যক নতুন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ অক্টোবর মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
একসঙ্গে ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রয়োজন হলে একাডেমিগুলোতে ডাবল শিফটে প্রশিক্ষণ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে প্রশিক্ষণ আবাসিক হবে নাকি অনাবাসিক এ বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
নতুন সহকারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেপ একটি আলাদা নীতিমালা তৈরি করছে। নেপ মহাপরিচালক জানান, নীতিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এটি একবার পর্যালোচনা করেছে। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর আবারও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
নীতিমালায় নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সময়কাল, প্রশিক্ষণের ধরন ও পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তাদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা থাকবে।
প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে নিয়োগ বাতিল করা হবে কি না এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে নেপ মহাপরিচালক জানান, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। নীতিমালা অনুমোদনের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও নেপের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন শিক্ষকরা নিয়োগ ও পদায়নের পর প্রয়োজনীয় বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করবেন। ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক নতুন শিক্ষকের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত সূচি, কেন্দ্র, আবাসিক ব্যবস্থা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নীতিমালা অনুমোদনের পর এসব বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।