Sunday, October 4, 2026

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ: বাংলাদেশে সম্মাননা পাচ্ছেন ১০০ শিক্ষক


ছবিঃ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

একজন শিক্ষকের কাজ শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীর চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তাঁরা। সেই অবদান ও শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা এবং কর্মপরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।

এ বছর দিবসটির গুরুত্ব আরও বিশেষ। ১৯৬৬ সালে শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুপারিশ গ্রহণের ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে ২০২৬ সালে। ছয় দশকের এই সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রযুক্তির বিস্তার থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও বাস্তুচ্যুতির মতো নতুন বাস্তবতা শিক্ষকদের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জও বাড়িয়েছে।

১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃসরকারি এক বিশেষ সম্মেলনে ইউনেসকো ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) যৌথভাবে ‘Recommendation concerning the Status of Teachers’ গ্রহণ করে।

ওই সুপারিশে শিক্ষকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আন্তর্জাতিক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়। শিক্ষকদের অধিকার ও দায়িত্ব, প্রাথমিক ও পরবর্তী প্রশিক্ষণ, নিয়োগপ্রক্রিয়া, চাকরির শর্ত এবং শিক্ষাদানের উপযোগী পরিবেশ এসব বিষয়ে সেখানে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষকতার পরিধিও বিস্তৃত হয়। উচ্চশিক্ষায় কর্মরত শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯৯৭ সালে ইউনেসকো আলাদা একটি সুপারিশ গ্রহণ করে।

এর আগে ১৯৯৪ সালে ইউনেসকো ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে শিক্ষকদের অবদান ও পেশাগত মর্যাদার স্বীকৃতির দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ছয় দশক পর বিশ্বজুড়ে শিক্ষকতার বাস্তবতা অনেকটাই বদলে গেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে যেমন পরিবর্তন এনেছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও শিক্ষকদের কাজকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ইউনেসকোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক শিক্ষককে বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে শিক্ষকদের বেতন, কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাধীনতা এবং নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত সহায়তার অভাব এবং অনুকূল কর্মপরিবেশ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকতা পেশা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে এবারের দিবসের আলোচনায় শুধু শিক্ষকদের অবদান নয়, তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’। প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে শিক্ষকদের আরও কার্যকর সহায়তা এবং তাঁদের পেশাগত মর্যাদা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে দিবসটি উপলক্ষে বৈশ্বিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ইউনেসকো-হামদান পুরস্কারের শিক্ষক উন্নয়নবিষয়ক নবম আসরের পুরস্কারও দেওয়া হবে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার বাংলাদেশেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সরকারের ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ৫ অক্টোবর নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হবে।

শিক্ষকদের অবদানকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের পেশাগত কাজে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শুধু একটি পাঠ শেষ করেন না; অনেক সময় তিনি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তার জগৎকে নতুন করে গড়ে দেন। সেই চিন্তা, জ্ঞান ও মূল্যবোধই পরবর্তী সময়ে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে।

তাই বিশ্ব শিক্ষক দিবস শুধু শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানানোর একটি দিন নয়। এটি শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে তাঁদের ভূমিকার প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতার কথাও মনে করিয়ে দেয়। ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ৬০ বছর পর ২০২৬ সালে এসে সেই বার্তাই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন