- ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর জিগাতলায় তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এর আগে রাত ৮টার দিকে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জিগাতলার ‘ঢাকা রেসিডেন্সি’ হোস্টেলে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, একটি সাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত কয়েকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। চার থেকে সাতজনের একটি দলের একজনের সাইকেল চুরি যায়। পরে তারা কয়েকজনকে সাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করে তাদের সঙ্গে উগ্র আচরণ শুরু করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিরা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। পরে কলেজ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি।
এদিকে, রাতের ঘটনায় এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে জিগাতলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী ও পুলিশের সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। ভাঙচুরের আশঙ্কায় গাবতলী মসজিদসংলগ্ন ঢাকা রেসিডেন্সি হোস্টেলটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই হোস্টেলের পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষে থাকতেন। তাদের একজনের সাইকেল চুরি যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সেখানে বিরোধ তৈরি হয়।
ওই ছাত্রদল নেতা দাবি করেন, হোস্টেলে থাকা কয়েকজনের কাছে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের টাকা পাওনা ছিল। মাসের প্রথম দিন হওয়ায় তারা হোস্টেল ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় পাওনা টাকা চাইলে সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করে পরে বিকাশে দেওয়ার কথা জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন ভিডিও ধারণ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং তাদের মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, পরে বিষয়টি ঢাকা কলেজে জানানো হলে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী ওই হোস্টেলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২০২৪ ব্যাচের রিজভী ও আসিফও রয়েছেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে যাতে নতুন করে সংঘর্ষ না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি করছে।