- ১৭ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
অর্থ পাচার ও ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকা চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে পণ্য আমদানিতে শতভাগ মার্জিন সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে রূপালী ব্যাংক পুরো অর্থায়ন করতে পারবে।
রোববার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট একটি ধারা প্রয়োগ করা হবে না।
শতভাগ মার্জিন সুবিধার অর্থ হলো, পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় প্রতিষ্ঠানটিকে আগাম কোনো অর্থ জমা দিতে হবে না। রূপালী ব্যাংকই আমদানির প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করবে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্থাপিত এস এস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য আমদানিতে শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল রূপালী ব্যাংক। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান থেকে এস এস পাওয়ার-১কে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সংশোধিত আইনের ২৭ কক(৩) ধারায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে নতুন করে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
আইনের ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণভাবে নতুন ঋণ সুবিধা দিতে পারবে না। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এবং সেটি ইচ্ছাকৃত খেলাপি না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোতে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন ঋণপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি একাধিক মামলা ও আর্থিক সংকটের কারণে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়।
এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে সচল রয়েছে। ভোগ্যপণ্য খাতের ব্যবসাও সীমিত পরিসরে চলছে। আর্থিক সংকটের কারণে গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতো এস এস পাওয়ার-১ নিয়েও ঋণসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আমদানি কার্যক্রমে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলো। বিশেষ করে কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালু রাখতে রূপালী ব্যাংকের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও আইনি বিধানের আওতায় থেকেই এ অনুমোদন দিয়েছে।