- ০৪ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ-হস্তক্ষেপ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে “সহায়তা করে মুক্ত করার” ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীকে ওই এলাকায় প্রবেশ না করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সোমবার ইরানি সামরিক বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড প্রধান আলী আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো বিদেশি সামরিক শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া চলাচল না করার নির্দেশ দেন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দেয়, “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে একটি নৌ-মিশনের মাধ্যমে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা, ১০০টির বেশি বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন ব্যবহার করা হবে।
ইরানের সতর্কবার্তার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি “অত্যন্ত উচ্চ” পর্যায়ে রয়েছে এবং নাবিকদের বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন উদ্যোগকে “উসকানিমূলক” আখ্যা দিয়ে ইরান বলেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে ভেঙে দিতে পারে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ হলে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে।