- ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিরোধী দলের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবে বাস্তবসম্মত কিছু থাকলে তা বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ নেবে।
বুধবার সংসদে জ্বালানিসংকট নিয়ে বিরোধী দলের আনা নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এ ধরনের উদ্যোগ জনগণের উপকারে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনার শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সরকার চাইলে তাদের পক্ষ থেকে বাস্তবভিত্তিক কিছু সুপারিশ দেওয়া হবে। তবে যৌথ কমিটি গঠনের বিষয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা দেননি প্রধানমন্ত্রী।
সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থাকলেও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের ঘাটতি রয়েছে। তারা দাবি করেন, শুরুতে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগেও দুর্বলতা ছিল। পাশাপাশি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন তারা।
অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, দেশে প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট নেই। এটি মূলত কৃত্রিম পরিস্থিতি, যা কিছু অসাধু চক্রের কারণে তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করেন, মে মাস পর্যন্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পাম্পে দেখা যাওয়া লাইনকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয় ভিড়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারি ও অতিরিক্ত লাভের আশায় এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে কৃষি, শিল্প বা শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি, যা প্রমাণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকার শুরু থেকেই সতর্ক ও দায়িত্বশীল নীতি অনুসরণ করছে।
আলোচনার একপর্যায়ে সংসদে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যখন এক সরকারি দলের সংসদ সদস্য বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এ সময় বিরোধী সদস্যরা প্রতিবাদ জানান এবং বক্তব্যের কিছু অংশ প্রত্যাহারের দাবি করেন। পরে স্পিকার বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।
সার্বিকভাবে আলোচনায় অংশ নেওয়া উভয় পক্ষই দেশের স্বার্থে সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও উঠে আসে সংসদের আলোচনায়।