- ০১ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার সংসদে এ–সংক্রান্ত একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। এতে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ মোট ১১ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা বিতর্ক শেষে স্পিকার আলোচনা সমাপ্ত ঘোষণা করলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বৈধ কোনো আইন নয় এবং এটি সংবিধানের কাঠামোর বাইরে গিয়ে জারি করা হয়েছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রপতির এ ধরনের আদেশ জারির এখতিয়ার নেই এবং এ কারণে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সুযোগও তৈরি হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই আদেশ কোনো অধ্যাদেশ বা আইন নয়, বরং এটি একটি বিতর্কিত দলিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইনি ভিত্তি ছাড়া কীভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা সম্ভব।
তবে সরকার সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংশোধনী আনার কথা বলা হয়।
অন্যদিকে বিরোধী দল দাবি করে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে এ ধরনের আদেশ জারির বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করে, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সংসদের দায়িত্ব।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানানো হলে সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত এসেছে তা অস্বীকার করা হলে জনগণের অভিপ্রায়ের অবমূল্যায়ন হবে।
সরকারি দলের প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে বিরোধী দল শর্তসাপেক্ষে আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের মতে, যদি প্রকৃত সংস্কারের লক্ষ্য সামনে রেখে সমান প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়, তবে তা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিটি হলে কাঙ্ক্ষিত সমাধান আসবে না বলেও তারা মত দেয়।
জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়। সেই অনুযায়ী সংসদের পাশাপাশি একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সংসদে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বা এর কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।