- ২৩ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে কথা বলে আসছে বামপন্থী দলগুলো। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল বলছে, যাদের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি তারা করে, সেই জনগোষ্ঠীর কাছেও এখন তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাম জোটের প্রায় সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বাম ধারার বিভিন্ন মতাদর্শের নয়টি দল মিলে গঠন করে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’। জোটটি ১৪৯টি আসনে প্রার্থী দিলেও অধিকাংশ জায়গায় তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হয়। এমনকি অনেক আসনে একাধিক বাম দল আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় ভোট বিভক্ত হয়েছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
বরিশাল-৫ আসনে বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী জোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও সেটি জামানত রক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়নি। অন্যদিকে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন কিংবা সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনের মতো শীর্ষ নেতারাও খুব কম ভোট পেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাম দলগুলোর দীর্ঘদিনের বিভক্তি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং জনসম্পৃক্ততার ঘাটতি তাদের রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। একসময় ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা দলগুলো এখন অনেকাংশে আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও সীমিত কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপন্থী ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে বেশি দৃশ্যমান। ফলে বাম দলগুলো ধীরে ধীরে ভোটের রাজনীতিতে প্রান্তিক হয়ে পড়ছে। একসময় যেসব এলাকায় সিপিবি বা অন্যান্য বাম দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ছিল, সেখানেও এখন তাদের ভোট কমে গেছে।
এদিকে বামপন্থী নেতাদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে, আরেক অংশ বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থানও দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে অংশ নিয়ে কয়েকজন বাম নেতা মন্ত্রী হলেও দলীয়ভাবে তারা তেমন শক্তি বাড়াতে পারেননি।
তবে বাম নেতাদের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ তাদের অনুকূলে নয়। তাদের মতে, দেশে পুঁজিবাদী রাজনীতি ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণে বাম রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অভাব ও সাংগঠনিক দুর্বলতাও তারা স্বীকার করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আদর্শভিত্তিক রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে বাম দলগুলোকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো, সাংগঠনিক সংস্কার এবং জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। অন্যথায় দেশের রাজনীতিতে তাদের প্রভাব আরও সংকুচিত হতে পারে।