- ২৪ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও এর আগে একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
ভারত সফরে থাকা রুবিও রোববার সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাঁর ভাষায়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে “ইতিবাচক খবর” আসতে পারে।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে ইরান-সংযুক্ত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া হবে। চলমান সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অনেকাংশে সীমিত হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ প্রথম ধাপেই মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত নিরসনের কথাও আলোচনায় রয়েছে।
তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরবর্তী ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের নতুন আলোচনা শুরু হবে, যা পরবর্তীতে পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানোও যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ঝুঁকি থেকে সরে আসবে—এটাই মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে কোনো বড় পরিবর্তন বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনা এখনও সংবেদনশীল পর্যায়ে থাকায় পরবর্তী কয়েক দিনই নির্ধারণ করবে চুক্তির ভবিষ্যৎ দিক।