- ২৪ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশেষ করে কঙ্গো ও উগান্ডায় সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রওমপারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের একটি দল হামলা চালায়। তারা ইবোলায় মৃত স্বজনদের মরদেহ হস্তান্তরের দাবি জানায়। একই ধরনের ঘটনা পরে ইতারি প্রদেশের মংবওয়ালু এলাকার একটি হাসপাতালে স্থাপিত একটি অস্থায়ী চিকিৎসা তাঁবুতেও ঘটে, যেখানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (MSF) পরিচালিত একটি সহায়ক তাঁবুতে চিকিৎসাকর্মীরা ইবোলা উপসর্গ থাকা এক রোগীর মৃত্যু পর তার মরদেহ স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী আলাদা করে রাখেন। পরে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতির সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুইটি চিকিৎসা তাঁবুতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানায় মানবিক সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল অ্যাকশন (ALIMA)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃতদেহ না দেওয়ায় চিকিৎসাকর্মীদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। রওমপারার এক বাসিন্দা বলেন, কেউ কেউ মনে করেন ইবোলা আক্রান্তদের শরীর নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড হতে পারে—যা জনমনে অবিশ্বাস আরও বাড়াচ্ছে।
তবে কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইবোলায় মৃত্যুবরণকারীদের মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক থাকে এবং শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমেই নিরাপদভাবে দাফন করতে হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনগণকে এ নির্দেশনা মানার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতারি প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জনের মৃত্যু এবং ৮০০-এর কাছাকাছি সংক্রমণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম সীমিত করা, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং মরদেহ স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুজব ও ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় কঙ্গোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। অনেক কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল সংকট দেখা দিয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (Africa CDC) অঞ্চলটির ১০টি দেশকে উচ্চ ঝুঁকিতে রেখেছে এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচার করা না গেলে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।