- ১৬ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তি পুনর্বিবেচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকজনকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনের শাস্তির মেয়াদ কমানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের দীর্ঘ সভায় দণ্ডপ্রাপ্তদের করা আপিলের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান সাংবাদিকদের জানান, মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পূর্বে দেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী বহিষ্কারপ্রাপ্ত ২১ জনের মধ্যে পাঁচজনকে সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটজনের স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ কমিয়ে দুই বছর এবং পাঁচজনের ক্ষেত্রে এক বছর করা হয়েছে। বাকি তিনজনের ক্ষেত্রে পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত আটজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছয়জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকি দুইজনের ক্ষেত্রে আগের শাস্তিই বহাল রয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
সিন্ডিকেট সভায় সনদ বাতিল সংক্রান্ত ১২টি সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চারজনের ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য এবং তিনজনের ক্ষেত্রে দুই বছরের জন্য সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ সিন্ডিকেট সভায় সব অভিযোগ, আপিল এবং প্রাসঙ্গিক নথিপত্র বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই কোথাও শাস্তি কমানো হয়েছে, আবার কোথাও পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দণ্ড পুনর্বিবেচিত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সিন্ডিকেট সচিব জানান, সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তালিকা পাওয়া গেলে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাবি প্রশাসন আগে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সর্বশেষ সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই শাস্তির একটি অংশ পুনর্মূল্যায়ন করা হলো।