Tuesday, June 16, 2026

স্টোরেজ সংকটে থমকে গেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার, অনিশ্চয়তায় চালুর সময়সূচি


প্রতীকী ছবিঃ মাউশি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বেসরকারি স্কুল–কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি সফটওয়্যারটি পর্যাপ্ত স্টোরেজ না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম স্টোরেজ ব্যবহারের কারণে সিস্টেমটি বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সফটওয়্যারটি সচল রাখতে প্রায় ৭ টেরাবাইট (৭ হাজার ১৬৮ জিবি) স্টোরেজ প্রয়োজন হলেও সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড মাত্র ২০০ জিবি স্টোরেজ সরবরাহ করেছিল। এই ঘাটতির কারণেই সফটওয়্যারটি নির্ধারিত সময়ে স্থিতিশীলভাবে চলতে পারেনি।

সূত্র আরও জানায়, টেলিটক গতকাল সফটওয়্যারটি সচল করার বিষয়ে আশ্বাস দিলেও মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা কার্যকর নির্দেশনা মাউশির কাছে পৌঁছায়নি। ফলে সন্ধ্যা থেকে সফটওয়্যার পুনরায় চালুর যে পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না পাওয়া পর্যন্ত সফটওয়্যারটি পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, সফটওয়্যার পরিচালনার জন্য বড় পরিসরের স্টোরেজ প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ করা সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। তিনি জানান, বিষয়টি সমাধানে টেলিটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যারটি শিগগিরই সচল করার চেষ্টা চলছে, তবে নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে মাউশির মাধ্যমিক শাখার উপপরিচালক মো. ইউনূছ ফারুকী বলেন, স্টোরেজ বৃদ্ধির জন্য টেলিটককে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। জবাব পাওয়া গেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সফটওয়্যার চালুর সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যারে তথ্য ইনপুট কার্যক্রম শুরু হয়। ৯ জুন পর্যন্ত তা স্বাভাবিকভাবে চললেও ১০ জুন থেকে সফটওয়্যারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত ব্যবহারকারী চাপের কারণে সিস্টেমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

পরবর্তীতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ঘাটতির কারণে সফটওয়্যারটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন