- ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় উত্তাল পরিবেশে টেনিস ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন নোভাক জকোভিচ। পাঁচ সেটের নাটকীয় সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জানিক সিনারকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন তিনি। এর মাধ্যমে পেশাদার যুগে টুর্নামেন্টটির ফাইনালে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়লেন সার্বিয়ান এই তারকা।
৩৯তম জন্মদিনের মাত্র চার মাস আগে, শুক্রবার গভীর রাত পেরিয়ে শনিবার ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে জকোভিচ ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪ ও ৬-৪ সেটে জয় পান। ম্যাচটি শেষ হয় স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩২ মিনিটে, প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার লড়াই শেষে।
জয়ের পর কোর্টে দাঁড়িয়ে জকোভিচ বলেন, এত দীর্ঘ ও উচ্চমানের একটি ম্যাচ খেলা সত্যিই অবিশ্বাস্য অনুভূতির। তিনি জানান, ২০১২ সালে রাফায়েল নাদালের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফাইনালের কথা তাঁর মনে পড়ছিল, যেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা লড়াই হয়েছিল। সিনারের বিপক্ষে জয় পেতে হলে সর্বোচ্চ তীব্রতা ও মান বজায় রাখাই একমাত্র উপায় ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জকোভিচ আরও বলেন, সিনার টানা পাঁচবার তাঁকে হারিয়েছিলেন, তাই এই জয়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, সিনার তাঁকে চূড়ান্ত সীমায় নিয়ে গেছেন এবং তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসার যোগ্য।
ফাইনালে জকোভিচের প্রতিপক্ষ হবেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় কার্লোস আলকারাজ। স্প্যানিশ তারকা দীর্ঘতম সেমিফাইনালে আলেক্সান্ডার জভেরেভকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন।
মেলবোর্নে প্রথম শিরোপা জয়ের ১৮ বছর পর জকোভিচ এবার লক্ষ্য রাখছেন রেকর্ড ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা এবং অভূতপূর্ব ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের দিকে—যা এখনো তাঁর নাগালের বাইরে।
টুর্নামেন্টের আগের রাউন্ডগুলোতে কিছুটা ভাগ্য সহায় ছিল জকোভিচের। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ লরেঞ্জো মুসেত্তি চোটের কারণে ম্যাচ ছেড়ে দেন এবং তার আগে চতুর্থ রাউন্ডেও ওয়াকওভার পান তিনি। তবে সিনারের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয় এসেছে কঠোর পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমেই।
চূড়ান্ত সেটে একাধিক ব্রেক পয়েন্ট রক্ষা করতে হয়েছে জকোভিচকে। ৩-৩ গেমে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিনারের সার্ভিস ভেঙে এগিয়ে যান তিনি। পরের গেমে আবারও চাপ সামলে একটি এস দিয়ে সার্ভ ধরে রাখেন, যা সার্বিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
৫-৪ গেমে ম্যাচ সার্ভ করতে নেমে দুইটি ম্যাচ পয়েন্ট তৈরি করেন জকোভিচ। প্রথম দুটো বাঁচালেও শেষ পর্যন্ত সিনারের ব্যাকহ্যান্ড বাইরে গেলে জয় নিশ্চিত হয়। তখন র্যাকেট ছুড়ে ফেলে হাঁটু গেড়ে বসে বুকে ক্রুশচিহ্ন এঁকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।