- ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ শুক্রবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। মিনেসোটায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান বন্ধের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়। একই দাবিতে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবাদে অংশ নেন।
সম্প্রতি মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়। বিক্ষোভের দিনে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যোগ না দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত কড়াকড়ি অভিবাসন নীতির আওতায় মিনিয়াপোলিস এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। কৌশলগত পোশাকে সজ্জিত এই বাহিনীর সংখ্যা স্থানীয় পুলিশ বিভাগের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শূন্যের নিচে তাপমাত্রার মধ্যেও মিনিয়াপোলিসের ডাউনটাউনে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছোট শিশুদের পরিবার, প্রবীণ দম্পতি ও তরুণ কর্মীরাও ছিলেন। অনেকেই আইসের শহর ছাড়ার দাবি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
এক বিক্ষোভকারী কাতিয়া কাগান বলেন, তাঁর বাবা-মা নিরাপত্তা ও ভালো জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি জানান, সেই ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ রক্ষার জন্যই তিনি রাস্তায় নেমেছেন। অন্য hookup, ৬৫ বছর বয়সী এক ধ্যান প্রশিক্ষক এই অভিযানকে নাগরিকদের ওপর ফেডারেল সরকারের চরম কর্তৃত্ববাদী আক্রমণ বলে মন্তব্য করেন।
যে এলাকায় নিহত দুই নাগরিক অ্যালেক্স প্রেট্টি ও রেনি গুডের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে স্থানীয় স্কুলের প্রায় ৫০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী মিছিল করেন।
বিক্ষোভে সমর্থন জানাতে সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনও এগিয়ে আসেন। মিনিয়াপোলিসে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় আয়োজিত এক তহবিল সংগ্রহ কনসার্টে তিনি অংশ নেন এবং তাঁর নতুন গান “স্ট্রিটস অব মিনিয়াপোলিস” পরিবেশন করেন।
এই আন্দোলন মিনেসোটা ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আয়োজকেরা জানান, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটনসহ বড় শহরগুলোতে প্রায় ২৫০টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্লোগান ছিল—“কাজ নয়, স্কুল নয়, কেনাকাটা নয়—আইসকে অর্থায়ন বন্ধ করো।”
এদিকে মিনিয়াপোলিসের ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব পড়ে ফেডারেল প্রশাসনেও। সূত্র জানায়, এফবিআইয়ের মিনিয়াপোলিস ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জ্যারাড স্মিথকে পদ থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনে পুনর্বহাল করা হয়েছে। ওই দপ্তরটি অভিবাসন অভিযানের পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি স্পর্শকাতর তদন্তে যুক্ত ছিল।
আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে যখন নিউইয়র্ক টাইমস একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে জানায়, আইস কর্মকর্তাদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই মানুষকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তারাও সন্দেহভাজন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে পারবেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ কংগ্রেসেও প্রভাব ফেলেছে। ডেমোক্র্যাটরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে অর্থায়নের বিরোধিতা করায় আংশিকভাবে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মিনিয়াপোলিসে আইস অভিযানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতি জনসমর্থন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহার এবং এই কঠোর অভিযান বন্ধ করাই একমাত্র পথ।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে অভিযানে কিছুটা সংযমের ইঙ্গিত দিলেও, সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্পষ্ট করে বলেন, অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না।