- ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একটি সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) আইন আনার ঘোষণা দিয়েছেন। এই আইনের মাধ্যমে দেশটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত শত বন্দির মুক্তির পথ খুলে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের পর এটিই রদ্রিগেজ সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কারমূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার বিচারপতি, ম্যাজিস্ট্রেট, মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি নেতাদের এক সমাবেশে দেওয়া পূর্ব-রেকর্ড করা বক্তব্যে রদ্রিগেজ বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো এই সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, জাতীয় পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে বিলটি বিবেচনায় নেবে।
রদ্রিগেজ বলেন, এই আইন রাজনৈতিক সহিংসতা ও চরমপন্থার কারণে সৃষ্ট বিভাজন নিরসনে ভূমিকা রাখবে এবং ভেনেজুয়েলার সমাজে ন্যায়বিচার ও সহাবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
এদিন তিনি কারাকাসের কুখ্যাত গোয়েন্দা কারাগার ‘এল হেলিকোইডে’ বন্ধ করার ঘোষণাও দেন। এই কারাগারে নির্যাতনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ রয়েছে। রদ্রিগেজ জানান, ভবিষ্যতে এল হেলিকোইডেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে, এই ঘোষণা এমন কর্মকর্তাদের সামনেই দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ওই কারাগার ও অন্যান্য আটককেন্দ্রে নির্যাতনের তদারকির অভিযোগ রয়েছে।
ভেনেজুয়েলাভিত্তিক বন্দি অধিকার সংগঠন ‘ফোরো পেনাল’-এর হিসাবে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন কারাগারে ৭১১ জন আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮৩ জনের সাজা কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি আলফ্রেদো রোমেরো সাধারণ ক্ষমা ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও বলেন, এটি যেন কোনো বৈষম্য ছাড়া সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
রোমেরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, সাধারণ ক্ষমা তখনই অর্থবহ হবে, যদি তা নাগরিক সমাজের সব অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি না করে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের কাঠামো ভেঙে ফেলতে সহায়তা করে।
ফোরো পেনালের তথ্য অনুযায়ী, মাদুরো অপহরণের পর থেকে রদ্রিগেজ সরকারের অধীনে অন্তত ৩০২ জন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। সংগঠনটি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে মানবাধিকারকর্মী এদুয়ার্দো তোরেসের মুক্তির মুহূর্ত দেখা যায়। তিনি ২০২৫ সালের মে মাস থেকে আটক ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বন্দিদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যাদের ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সাজা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও সরকার দাবি করছে, ভেনেজুয়েলায় কোনো রাজনৈতিক বন্দি নেই এবং যাদের আটক করা হয়েছে, তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৬০০ জনের বেশি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন, তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট করা হয়নি।