- ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গাজা উপত্যকায় শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ছয়জন শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন একদিন পরই রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপন করা একটি অস্থায়ী তাঁবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ছিল। আহত ও নিহতদের মরদেহ খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রেমাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় আরও পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। একই শহরের দারাজ এলাকায় আরেকটি ভবনে বোমা হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে গাজা-মিসর সীমান্তবর্তী শহর রাফাহ এলাকায়ও একাধিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, রোববার রাফাহ ক্রসিং সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হবে, যা গত মে মাসের পর প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে। তবে এই পথে কোনো ত্রাণ বা মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, শুধুমাত্র তাদের নিরাপত্তা অনুমোদন পাওয়া কিছু মানুষকেই যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে। যারা গত দুই বছরে গাজা ছেড়ে গিয়েছিলেন, কেবল তারাই ফিরতে পারবেন। গাজার বাইরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
হামাস এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় গাজার ভেতরে ও বাইরে মানুষের অবাধ চলাচলের দাবি জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সব শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ হাজার ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি।