Monday, June 1, 2026

ইসলামী ব্যাংক ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে কঠোর অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংকের


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক Islami Bank Bangladesh PLC-কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জনরাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে ব্যাংক সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত কেবল আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে, কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ বা আবেগের ভিত্তিতে নয়।

মুখপাত্র আরও জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী খেলাপি ঋণগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকতে পারেন না। সাম্প্রতিক সময়ে একটি ব্যাংকের (First Security Islami Bank PLC) পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত কিছু অনিয়মের অভিযোগ ও ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে পাওয়া তথ্য গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণসহ সকল আর্থিক ও আইনি বিষয় আরও কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, Bangladesh Bank গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—দেশের ব্যাংকিং খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা চাপ সহ্য করা হবে না। কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কিছু ব্যাংক রাজনৈতিক প্রভাব বা সংকটের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে কি না—তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর মনিটরিং অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন