- ৩০ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল আক্রমণের সতর্কবার্তার মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে।
আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট, যা ২.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়েবসাইট অয়েল প্রাইজ ডটকম।
গতকাল রোববার ইরানের সংসদের স্পিকার জানান, দেশটির সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট যুদ্ধে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও জড়িত হয়েছে। হুতিরা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা তেলের পরিবহন এবং হরমুজ প্রণালিসহ লোহিত সাগরের সড়কপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিরা চাইলে বৈশ্বিক নৌপথে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর জন্য পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় সাহায্য করবে পাকিস্তান।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের দামও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৯৮ ডলার।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও তেলের দাম দ্রুত কমবে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং তেল-গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষতি মেরামতের ওপর নির্ভর করবে দাম কমার গতি। কাতারের রাস লাফান গ্যাসক্ষেত্র, যা বিশ্বের বৃহত্তম কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি, মার্চের মাঝামাঝি ইরানের হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এশিয়ার শেয়ারবাজারে প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক প্রায় ৪.৫ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করেছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ৪ শতাংশ পতিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে ভোলাটিলিটি বজায় থাকবে এবং এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে।