Thursday, September 10, 2026

ইরান সংকটের সম্ভাব্য সমঝোতা ঘিরে তেলের দামে বড় পতন


ছবিঃ ২০২৬ সালের ২২শে মে ইরানের হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল করছে (সংগৃহীত | আল জাজিরা । মাজিদ আসগারিপু/ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি, রয়টার্সের সৌজন্যে)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলতেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র পতন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনেই পাঁচ শতাংশের বেশি কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিশ্র বক্তব্য এবং সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও সমঝোতার প্রত্যাশাই মূলত এই দরপতনের কারণ।

রোববার বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৯৪ ডলারে নেমে আসে। গত এক মাসের তুলনায় এটি প্রায় ৯ শতাংশ কম হলেও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখনও ৩০ শতাংশের বেশি উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক সোমবার সকালে ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে যায়।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা “শৃঙ্খলাবদ্ধ ও গঠনমূলক”ভাবে এগোচ্ছে। তবে তিনি কর্মকর্তাদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “উভয় পক্ষকে সময় নিতে হবে এবং সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, একটি চুক্তি “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে” পৌঁছেছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিশ্লেষক জুন গোহ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় এক কোটি থেকে এক কোটি দশ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজার থেকে বাইরে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো চুক্তি কার্যকর হলে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল ধীরে ধীরে বাজারে ফিরতে পারে, তবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত তেলের বাজারে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি দিলেও, বাস্তব কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন