Monday, May 25, 2026

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নজরে চীন–পাকিস্তান


ছবিঃ ২৫ মে, ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লি ছাড়ার জন্য বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কো রুবিও। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । জুলিয়া ডেমারি নিখিনসন/পুল ভায়া রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে একটি শক্তিশালী চুক্তি চাইছে, নতুবা দেশটির বিষয়ে “অন্য পথে” অগ্রসর হতে হবে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, ইরান ইস্যুতে দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তাঁর মতে, “আমরা ভেবেছিলাম গত রাত বা আজ কিছু অগ্রগতি হতে পারে, তবে বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি বছরের এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, একটি সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানকে এই প্রণালির নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে হবে।

রুবিও জানান, আলোচনার টেবিলে এমন একটি প্রস্তাব রয়েছে যা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, কোনো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি বলেন, “একটি চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত চাপ অব্যাহত থাকবে।” ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, দুই পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, তবে চুক্তি স্বাক্ষর এখনো নিশ্চিত নয়।

তিনি বলেন, আলোচনার মূল ফোকাস বর্তমানে পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং যুদ্ধ অবসানের শর্ত নিয়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না—এ নিয়ে ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান নীতিগতভাবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ শিথিল করতে পারে। তবে ইরান পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তি কাছাকাছি আসেনি। তারা মনে করছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা সংকটই এখন সবচেয়ে বড় বাধা।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে পাকিস্তান ও চীনের কূটনৈতিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও চূড়ান্ত সমঝোতার পথ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন