Monday, May 25, 2026

প্রাথমিকের ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষকের যোগদান অক্টোবর পর্যন্ত পিছোতে পারে


প্রতীকী ছবিঃ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজারের বেশি প্রার্থীর যোগদান আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে যোগদান করানো হবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)–এর মাধ্যমে। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নে উত্তীর্ণদেরই বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঈদুল আজহার পর প্রশিক্ষণের মডিউল চূড়ান্ত করা হতে পারে। জুনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য সময়কাল দুই থেকে তিন মাস ধরা হচ্ছে। যদি দুই মাসের মধ্যে কার্যক্রম শেষ হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষকদের যোগদান সম্পন্ন হতে পারে। তবে প্রশিক্ষণ তিন মাস পর্যন্ত গড়ালে যোগদান প্রক্রিয়া অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।

একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশিক্ষণ মডিউল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সময়সূচি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদান সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ মডিউল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ। নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহ্‌মদ বলেন, ঈদের ছুটির পর মন্ত্রণালয়ের সভায় মডিউল জমা দেওয়া হবে। অনুমোদনের পরই প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ৬৯ হাজার প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরবর্তীতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তবে সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় যোগদান না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে গত এপ্রিল মাসে রাজধানীতে আন্দোলনও করেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। পরে সরকার থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন শেষে তাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করানো হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতেই এই প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন