- ২৫ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই নানা জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি)। বিশেষ করে তথ্য ইনপুটের কারিগরি সীমাবদ্ধতা এবং নবম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সম্ভাব্য সুপারিশকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের বদলির জন্য আগামী ১০ জুনের মধ্যে সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্ধারিত সফটওয়্যারে শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য আপলোড করতে হবে। টেলিটকের সহায়তায় তৈরি করা এই সফটওয়্যারে বিপুল পরিমাণ তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পর্যাপ্ত দক্ষ নন। ফলে তথ্য ভুলভাবে সংযোজন হলে বদলির আবেদনকারী শিক্ষকদের নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হতে পারে। কারও তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে বা ভুল ইনপুট হলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বদলি কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি হিসেবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ জন্য আঞ্চলিক অফিসগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিয়ে অনলাইন সভাও করা হচ্ছে। তবে সফটওয়্যার ব্যবহারে অনেকের অনভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সফটওয়্যার সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে নবম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি বদলি কার্যক্রম শুরুর আগেই নতুন নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়, তাহলে অনেক শূন্য পদ পূরণ হয়ে যাবে।
সেক্ষেত্রে দীর্ঘদিন দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত শিক্ষকরা নিজ জেলার কাছাকাছি বদলির সুযোগ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, শূন্য পদ না থাকলে বদলির আবেদন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মাউশির কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমকে কার্যকর করতে হলে নবম শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের আগে বদলির প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।
শিক্ষকদের একটি অংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বদলির সুযোগ না থাকায় অনেকেই পরিবার থেকে দূরে থেকে চাকরি করছেন। ফলে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।