- ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আধুনিক ফুটবলে নেইমারের মতো সহজাত প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুব কমই দেখা যায়। বল পায়ে জাদু, ক্ষিপ্র ড্রিবলিং আর সৃজনশীলতায় এক সময় তাকেই ভাবা হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ মুখ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্ভাবনার গল্পে যোগ হয়েছে ইনজুরি, বিতর্ক আর অপূর্ণতার দীর্ঘ ছায়া। ফলে নেইমারের ক্যারিয়ারকে অনেকেই আখ্যা দিচ্ছেন—একজন রাজপুত্রের গল্প, যিনি কখনো রাজা হয়ে উঠতে পারেননি।
সান্তোসে দুর্দান্ত শুরুর পর ২০১৩ সালে বড় স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপে পা রাখেন নেইমার। বিপুল অঙ্কের ট্রান্সফারে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে চার মৌসুমে জেতেন চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য শিরোপা। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে তোলা ‘এমএসএন’ আক্রমণভাগ আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ত্রয়ী হিসেবে স্মরণীয়।
এরপর বিশ্বরেকর্ড গড়ে পিএসজিতে পাড়ি, সেখানে আলো-আলোড়নের মাঝেও ইনজুরি পিছু ছাড়েনি। শেষ পর্যন্ত ইউরোপ ছেড়ে সৌদি ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেন তিনি। কিন্তু সেখানেও চোটের কারণে কাঙ্ক্ষিত ধারাবাহিকতা পাননি। সবশেষে ক্যারিয়ারের শুরুতে ফিরে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন করেন সান্তোসে।
দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, বারবার ইনজুরির ধকল সামলাতে গিয়ে একাধিকবার অবসরের কথাও ভেবেছিলেন নেইমার। তার বাবা জানিয়েছেন, শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে মানসিক ক্লান্তিও চেপে বসেছিল ছেলের ওপর। এমনকি অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিয়ে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচানোর লড়াইয়েও মাঠে নামেন তিনি—যেখানে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
নেইমারের ইনজুরি তালিকা দীর্ঘ ও জটিল। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২৩-২৪ মৌসুমে, যখন অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। প্রতিটি প্রত্যাবর্তনই ছিল ধৈর্য আর মানসিক শক্তির পরীক্ষা।
অবশেষে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর নেইমারের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সান্তোস ক্লাব জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি সফল হয়েছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া খুব সতর্কভাবে এগোচ্ছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন করে নিজেকে প্রস্তুত করছেন নেইমার। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তিনি জাতীয় দলের পরিকল্পনায় কতটা জায়গা করে নিতে পারবেন—তা এখনো অনিশ্চিত। ইনজুরির সঙ্গে এই শেষ লড়াইয়ে জয়ী হতে পারলেই হয়তো নেইমার প্রমাণ করতে পারবেন, রাজপুত্রের গল্প এখানেই শেষ নয়।