Sunday, January 11, 2026

যৌন হয়রানির অভিযোগে তোলপাড় শুটিং অঙ্গন, প্রশ্নের মুখে ফেডারেশনের ভূমিকা


ছবিঃ শুটিং অঙ্গন (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

এক সময় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গৌরবের প্রতীক ছিল শুটিং। ১৯৯০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে সাফল্যের মাধ্যমে যে খেলাটি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করিয়েছিল, সেই শুটিং এখন জড়িয়ে পড়েছে বিতর্ক ও অভিযোগে। শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।

অভিযোগের প্রতিবাদে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন দেশের সাবেক নারী ক্রীড়াবিদরা। বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হলেও শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে। ফেডারেশনের দাবি, তারা কোনো নারী শুটারের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ পায়নি।

তবে এনএসসি সূত্রে জানা গেছে, যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করে একটি কমিটি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ১০ বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এনএসসি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অব্যাহতির পরও তিনি নিয়মিত শুটিং ফেডারেশনে উপস্থিত হচ্ছেন এবং কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌস বলেন, তারা এনএসসির কোনো চিঠি পাননি এবং সাজ্জাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও তাদের কাছে আসেনি। বরং কিছু শুটার বিভিন্ন জায়গায় বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি চার পৃষ্ঠার একটি লিখিত বক্তব্যও পাঠ করেন।

সাজ্জাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাধারণ সম্পাদক জানান, তিনি নাকি কিছু কাগজপত্র বুঝিয়ে দিতে ফেডারেশনে এসেছিলেন। এ বিষয়ে পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল ফেডারেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাদ নিজে উপস্থিত থাকতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে তাকে আসতে বারণ করা হয়।

এদিকে সাজ্জাদকে এনএসসি থেকে সরানোর দিনই নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে শাস্তি দেয় ফেডারেশন। তবে কী কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। কখনো ‘কোড অব কন্ডাক্ট’, কখনো ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ’-এর কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়নি। এক পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, কলি অনুশীলনের সময়সূচি মানেন না এবং ব্যক্তিগত কারণে ক্যাম্পে থাকতে চান না—যা নাকি অন্যদের ওপর প্রভাব ফেলে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়েন আলেয়া ফেরদৌস। সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচারের’ অভিযোগ আনা হলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, চিঠিতে স্বাক্ষর করলেও তা ভালোভাবে পড়ার সময় পাননি—এ বক্তব্যে আরও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

এদিকে ফেডারেশনের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নেই এবং প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফেডারেশনের একাধিক কর্মকর্তা সাজ্জাদের পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে।

শুটিং অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিতর্ক শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশের শুটিং প্রশাসনের জবাবদিহি, নৈতিকতা ও ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন