- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। শনিবার ভোরে তেহরানে তার বাসভবনে হামলা চালানো হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “যৌথ অভিযানে খামেনি ও শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।”
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা জানায়, হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের মৃত্যুতে ইরানজুড়ে শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
১৯৮৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র মৃত্যুর পর খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯৮০–৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওই যুদ্ধ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ইরাক-সমর্থন খামেনির রাজনৈতিক দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে বলে বিশ্লেষকদের মত।
দীর্ঘ শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করেন এবং Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-কে সামরিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন। তার নেতৃত্বে “রেজিস্ট্যান্স ইকোনমি” বা প্রতিরোধভিত্তিক অর্থনীতির ধারণা সামনে আসে—যার লক্ষ্য ছিল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলা।
খামেনির শাসনামল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়েছে।
তবে অভ্যন্তরীণভাবে তার শাসন একাধিকবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে বিক্ষোভ, ২০২২ সালে নারীর অধিকার ইস্যুতে আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট-উদ্ভূত বিক্ষোভে সরকার কঠোর দমনপীড়ন চালায়। সমালোচকদের মতে, জাতীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের আস্থা হারান তিনি।
খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ হামলার জেরে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। ইতোমধ্যে লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) নতুন নেতা নির্বাচন করবে। ততদিন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যু ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এখন নজর তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের দিকে।