- ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট পর্বে আজ শুক্রবার কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ম্যাচটি দুই দলের জন্য ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করেছে—ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেও নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি ‘করো বা মরো’ লড়াই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় কিউইদের সমীকরণ কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর তারা আবারও শেষ চারে ওঠার দৌড়ে জোরালো অবস্থানে। আজ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে নিউজিল্যান্ড। হারলে নির্ভর করতে হবে নেট রানরেট ও অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতে চাপে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ঝড়ো ব্যাটিং দলকে লড়াইয়ে ফেরায়। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ গড়ে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে কম রানে থামিয়ে দেয় তারা। স্পিন সহায়ক উইকেটে রাচিন রবীন্দ্রর কার্যকর বোলিং ছিল উল্লেখযোগ্য। ওপেনিং জুটিতে ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন, আর মাঝের সারিতে গ্লেন ফিলিপস ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। পেস আক্রমণে লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরির উপস্থিতি দলকে বাড়তি ভারসাম্য দিয়েছে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড খেলছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরি দলকে বড় প্রেরণা দিয়েছে। এবারের আসরে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে দায়িত্ব ভাগাভাগির চিত্র স্পষ্ট—একাধিক ব্যাটার ইতোমধ্যে শতাধিক রান করেছেন। ফিল সল্টের আক্রমণাত্মক শুরু এবং মাঝের সারির স্থিরতা তাদের বড় শক্তি। যদিও জস বাটলার এখনো বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, দল তার অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখছে। বোলিং বিভাগে জোফরা আর্চারের ধারাবাহিকতা এবং স্পিনে আদিল রশিদ–লিয়াম ডসনের কার্যকারিতা ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছে।
কলম্বোর উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক হওয়ায় মাঝের ওভারগুলোর লড়াই হতে পারে নির্ধারক। রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ ও উইকেট রক্ষা—দুই দিকেই যে দল ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা ইংল্যান্ড জয়ের ধারা ধরে রাখতে চাইবে, আর নিউজিল্যান্ড নামবে টিকে থাকার লড়াইয়ে—ফলে উত্তেজনাপূর্ণ এক ম্যাচের অপেক্ষায় ক্রিকেটভক্তরা।