- ১৪ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী
নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত খোরশেদ আলম হাতিয়ার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির মা ও ভাই তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সেই সূত্রে শিশুটির তদন্ত কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে নিজের কক্ষ বা বাসায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাগুলো গোপন রাখতে শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য অর্থের প্রলোভনও দেখানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় তারা দীর্ঘদিন বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি। পরে সাহস সঞ্চয় করে অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খোরশেদ আলম। তিনি দাবি করেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের প্রশাসনিক কারণে বদলির ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, সংবেদনশীল এ ঘটনায় স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তই প্রকৃত সত্য উদঘাটনের একমাত্র পথ।