- ১৪ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোরে গয়টাপাড়া ও ভন্ধুরচর সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি গয়টাপাড়া বংশিরচর বটতলা সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী, দুই শিশু ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। একই সময়ে ভন্ধুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজন পুরুষকে প্রবেশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিরা ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাসিন্দা। তবে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং নজরদারি বাড়ান। স্থানীয় বাসিন্দারাও সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। এতে পুশইনের চেষ্টা প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং এ লক্ষ্যে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোনা মিয়া জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক চেষ্টা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে স্থানীয়রা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গয়টাপাড়া সীমান্তে আনা ছয়জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
গয়টাপাড়া বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার মাসুদ রানা জানান, বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে পুশইনের চেষ্টা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণও সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, রৌমারী সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সম্প্রতি একাধিকবার একই ধরনের চেষ্টা হয়েছে। তবে বিজিবির সক্রিয় উপস্থিতি এবং সীমান্তবর্তী জনগণের সতর্কতার কারণে সেসব উদ্যোগ সফল হয়নি। বর্তমানে গয়টাপাড়া ও ভন্ধুরচর সীমান্তজুড়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।