- ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নারায়ণগঞ্জ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একাধিক তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আন্দোলন কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে কাঠেরপুল এলাকার বেশ কয়েকটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা একজোট হয়ে মিছিল নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের পথরোধ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। জবাবে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত এলাকাটিতে থেমে থেমে সংঘাত চলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, সকালে শ্রমিকরা জড়ো হওয়ার পরপরই স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মেট্রো নিটিং কারখানার এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, "আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের ন্যায্য দাবির কথা বলছিলাম। কিন্তু কিছু লোক এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশও এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।"
তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গত দুই দিন ধরে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও শ্রমিকরা কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানিতে প্ররোচিত হয়ে সড়ক অবরোধ করছিলেন। এতে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে সকাল থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও এএসআরবি মোতায়েন করা হয়। শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাজপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, "সরকার ইতোমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত শ্রমিকদের অপেক্ষা করতে এবং আন্দোলন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না মেনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক দখলের চেষ্টা চালায়। জনস্বার্থে ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য হয়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে।"
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এলাকার কোনো গার্মেন্টস কারখানা এখন পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমানে ফতুল্লা এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক আছে।
উল্লেখ্য, একই দাবিতে গত সোমবার ও মঙ্গলবারও ফতুল্লার পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।