- ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ফরিদপুর
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে প্রায় ৫০টি দোকান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে মুনসুরাবাদ গ্রামের এক কিশোর ফুটবল খেলার প্রচারণার জন্য মাইকিং করতে গেলে প্রতিবেশী খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই কিশোরকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজার এলাকায় প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
রাতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও শনিবার সকাল ৭টার দিকে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে চার গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পক্ষ মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয়, অপর পক্ষ হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষই ঘরের ছাদ ও দোকানের আড়াল থেকে ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশও বাধার মুখে পড়ে এবং কয়েকজন সদস্য আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা আল আমিন জানান, পরিস্থিতি এক পর্যায়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নতুন করে সহিংসতা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে।