- ২১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। দিনাজপুর
দীর্ঘ ১৮ মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে আবার চালু হয়েছে দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। বুধবার বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিট থেকে ইউনিটটি পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে।
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট এবং প্রথম ইউনিট থেকে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৬ সালে বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও শুরু থেকেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় কেন্দ্রটি। কাগজে-কলমে ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে কখনো ১৫০, কখনো ১১০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। পরে যান্ত্রিক জটিলতায় দ্বিতীয় ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৭ সালে নতুন করে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট চালু করা হয়। তবে প্রায় আট বছর চলার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ মেরামত ও কারিগরি কাজ শেষে এখন আবার ইউনিটটি সচল করা সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাল থেকেই নানা ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার কারণে অনেক কারিগরি সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির কোল ইয়ার্ডে অতিরিক্ত কয়লা মজুতের চাপ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে তৃতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় কয়লার ব্যবহার বাড়বে এবং মজুত সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন খনি কর্তৃপক্ষ।
খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানান, উৎপাদিত কয়লা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা বাজারে সীমিত পরিসরে কয়লা বিক্রির বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে কয়লার ব্যবহারও বাড়বে, যা খনির ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।