Tuesday, July 14, 2026

ফরিদগঞ্জে নির্মাণের কয়েক মাসেই ধস: সড়ক সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত জামানত আটকে রাখার ঘোষণা


ছবিঃ চাঁদপুরে বৃষ্টিতে ধসে পড়ল পাকা সড়ক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। চাঁদপুর

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা সড়কের অংশ কয়েক মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। টানা বর্ষণের পর পুকুরপাড়সংলগ্ন অংশে সৃষ্টি হওয়া এই ধসকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অবহেলা ও ত্রুটির কারণেই সড়কটি এত দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরদুঃখিয়া গ্রামের গাজী বাড়ির সামনের এলাকায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে রামপুর–সোলাখালী সড়ক থেকে সন্তোষপুর বাউন্ডারি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সোহেল বিল্ডার্স করপোরেশন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরপাড় ঘেঁষে নির্মিত সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পুকুরের দিকে হেলে পড়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি আরও সরে যাওয়ায় ধসের পরিধি বাড়ছে। এতে সড়কটি দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুরু থেকেই গাইডওয়াল নির্মাণে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা হয়নি। পরে রাস্তার পাশ ভরাটের জন্য গাইডওয়ালের একেবারে পাশ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটায় কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্ষার পানিতে সেই দুর্বল অংশ ভেঙে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন, শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন জানান, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা পুকুরের গভীরতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গাইডওয়াল আরও মজবুত করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই পরামর্শ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন তারই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সংস্কারকাজ শুরু না হলে চলমান বর্ষায় সড়কের আরও বড় অংশ পুকুরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থও অপচয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়ক ধসের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, গাইডওয়াল নির্মাণে ত্রুটি ছিল এবং গাইডওয়ালের পাশ থেকে মাটি কেটে ভরাট করাও প্রকৌশলগতভাবে সঠিক হয়নি। কাজটি গত অর্থবছরে শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জামানত এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেই জামানত ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করলেই হবে না; পুরো সড়কের নির্মাণমান পুনর্মূল্যায়ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন