- ১৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। সিলেট
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সিলেটের আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামিদের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ থেকে চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় অনুযায়ী, আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গত বছরের মে মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বিচার চলাকালে মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের শিক্ষক এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে গেলেও পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে তিন দিনের মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তের সময় ডিএনএ পরীক্ষায় আটজনের মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে যেসব আসামি খালাস পেয়েছেন, সে বিষয়ে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এই রায় দেশের অন্যতম আলোচিত নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর একটি হিসেবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।