- ০৮ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ফেনী
ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রায় এক মাস কারাভোগের পর নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন এক মসজিদের ইমাম। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা অভিযুক্ত ইমাম নন; বরং তারই আপন বড় ভাই।
ঘটনাটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার টেটরশ্বর জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় ওই মসজিদের ইমাম ও খতিব মোজাফফর আহমেদকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ ওঠার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ কিছু লোক তার বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তার মা মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন মোজাফফর আহমেদ ও তার পরিবার।
পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তানের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেন। পরীক্ষার প্রতিবেদনে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। সেখানে বলা হয়, অভিযুক্ত ইমামের সঙ্গে শিশুর কোনো জৈবিক সম্পর্ক নেই। বরং কিশোরীর বড় ভাই মোরশেদের সঙ্গে সন্তানের জৈবিক সম্পর্কের মিল পাওয়া যায়।
ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। পরে অভিযুক্ত মোরশেদকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর মোজাফফর আহমেদ বলেন, শুরু থেকেই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও কেউ তার কথা বিশ্বাস করেননি। এ ঘটনায় তিনি চাকরি হারিয়েছেন, সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছেন এবং মামলার খরচ চালাতে সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “একটি মিথ্যা অভিযোগ আমার জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সমাজে আমি এবং আমার পরিবার ভয়াবহ মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম। সত্য প্রকাশ পেলেও হারানো সম্মান ও ক্ষতি সহজে ফিরে আসবে না।”
মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। চাইলে তিনি এখন আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।
পরশুরাম মডেল থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই পুলিশ কাজ করেছে। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে ইমামের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।