- ০৮ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে ইরানি জাহাজ ও উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের ওপর হামলা হয়। তবে ওই হামলায় মার্কিন জাহাজগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাবে ইরানি বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও অন্য একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকা এবং কেশম দ্বীপ–এ বিমান হামলারও অভিযোগ আনা হয়।
ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, এসব হামলার জবাবে তারা হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চল এবং চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন নৌযানে হামলা চালিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, ওই হামলায় মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক কমান্ড এ দাবি অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনার ঘটনা। যদিও উভয় পক্ষই এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে ফুজাইরাহ বন্দরের একটি তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনাও সামনে আসে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরতে চাইলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাক এমনটা কেউই চায় না। তবে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।