- ০৮ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন–এ আবারও জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সরকার নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (ওয়াইপিসি) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১,১৯০ ইয়েমেনি রিয়াল থেকে বাড়িয়ে ১,৪৭৫ রিয়াল করা হয়েছে। অর্থাৎ জ্বালানির দামে প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আঞ্চলিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালী–এ জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং পরিবহন ও বিমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমানো হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লা–র বাসিন্দা ও গাড়িচালক আবদুল্লাহ সালেম বলেন, নতুন মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাত্রীভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেক যাত্রী।
দীর্ঘ সময় গাড়ি চালিয়েও সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাড়া বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই এখন গণপরিবহন এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে চলাচল করছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন খাতেই নয়, খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। তারা আশঙ্কা করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সামনে আরও মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মুস্তাফা নাসর নামের এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ইয়েমেনের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের ধাক্কায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মুকাল্লার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, যিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, জানান তার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। বাবার বেতন অনিয়মিত হওয়ায় শিক্ষার খরচ চালাতে মাকে গয়না বিক্রি করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর বাসভাড়াও বেড়েছে। এমনকি গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে, যদিও গ্যাসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট এবং বৈদেশিক নির্ভরতার কারণে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ ক্রমেই আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন।