- ০৮ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই–কে ঘিরে চলমান আইনি বিরোধে এবার প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নীতি ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ইলন মাস্ক–এর করা মামলার শুনানিতে সাবেক কর্মী ও বোর্ড সদস্যরা দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে গবেষণা ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে সরে গিয়ে পণ্যকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে ফেডারেল আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ওপেনএআইয়ের সাবেক কর্মী রোজি ক্যাম্পবেল বলেন, তিনি ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানের এজিআই প্রস্তুতি দলে যোগ দিয়েছিলেন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (AGI) ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর আলোচনা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি বাণিজ্যিক ও পণ্যভিত্তিক হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে তার দল ভেঙে দেওয়া হয়। একই সময়ে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক আরেকটি দল ‘সুপার অ্যালাইনমেন্ট’ও বন্ধ হয়ে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অতিমাত্রায় শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শুনানিতে ক্যাম্পবেল একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাইক্রোসফট ভারতের বাজারে তাদের সার্চ ইঞ্জিন বিংয়ের মাধ্যমে জিপিটি-৪ প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বোর্ডের অনুমোদন নেয়নি। যদিও মডেলটি সরাসরি বড় ঝুঁকি তৈরি করেনি, তবু ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী প্রযুক্তির জন্য কঠোর নিরাপত্তা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি ছিল বলে তিনি মত দেন।
অন্যদিকে শুনানিতে ওপেনএআইয়ের সাবেক বোর্ড সদস্য তাশা ম্যাককুলি অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বোর্ডের কাছে সব তথ্য স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতেন না। তিনি বলেন, ওপেনএআইয়ের অলাভজনক বোর্ডের মূল দায়িত্ব ছিল লাভজনক অংশের কার্যক্রম তদারকি করা, কিন্তু তথ্য গোপনের কারণে সেই কাঠামো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি।
তিনি আরও দাবি করেন, বোর্ডকে না জানিয়েই চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়েও বোর্ডের মধ্যে উদ্বেগ ছিল।
মামলাটির মূল বিষয় হচ্ছে ওপেনএআই কি তার প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে কি না। ইলন মাস্কের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করছেন, গবেষণা ও মানবকল্যাণকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু হলেও ওপেনএআই এখন বিশ্বের অন্যতম বড় বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন কলম্বিয়া ল’ স্কুলের সাবেক ডিন ডেভিড শিজার। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হতে হবে।
এদিকে ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে তাদের এআই মডেলের মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা কাঠামো প্রকাশ করে আসছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ মামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়; বরং দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।