- ০৮ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার–এর নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি । প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ডানপন্থী দল সংস্কার ইউকে দেশজুড়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গণনা হওয়া ফলাফলে লেবার পার্টি ২৫০টির বেশি কাউন্সিল আসন হারিয়েছে। অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে শতাধিক নতুন আসনে জয় পেয়েছে, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফলকে স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও লেবার পার্টি রিফর্ম ইউকের পেছনে পড়ে যায়।
প্রাথমিক ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় কিয়ার স্টারমার বলেন, ফলাফল হতাশাজনক হলেও তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন না। তবে এ কারণে নেতৃত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে পরাজিত লেবার প্রার্থীদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন নিজেদের এলাকার জন্য কাজ করেছেন এবং এই ফলাফল দলকে কষ্ট দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ বর্তমানে ব্রিটিশ ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। অনেক ভোটার এখন এসব সমস্যার জন্য সরাসরি সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের তথাকথিত “রেড ওয়াল” এলাকাগুলোতে লেবার পার্টির ভরাডুবি চোখে পড়েছে। একসময় শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এসব অঞ্চল ঐতিহ্যগতভাবে লেবারের ঘাঁটি ছিল।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার ও লিভারপুল অঞ্চলেও রিফর্ম ইউকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কয়েকটি সাবেক খনি শহরে দলটি প্রায় সব আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় কয়েক দশকের লেবার আধিপত্যও ভেঙে দিয়েছে তারা।
এদিকে কনজারভেটিভ পার্টি–ও আসন হারিয়েছে। যদিও লন্ডনের কিছু এলাকায় তারা অগ্রগতি করেছে, তবুও সার্বিকভাবে দলটির অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
বামঘেঁষা ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার আশা করা গ্রিন পার্টি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। দলটির নেতা জ্যাক পোলানস্কি ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে তরুণদের মধ্যে আলোচনায় এলেও তা ভোটে বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্সিলে প্রায় পাঁচ হাজার আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। পাশাপাশি লন্ডনসহ বিভিন্ন এলাকায় মেয়র নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস–এর আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনের এই ফলাফল ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিনের দুই দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।