- ১১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের অনীহার কারণে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তরপত্র সংগ্রহ ও মূল্যায়নে ধীরগতির কারণে ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াই চাপে পড়তে পারে।
খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব পাওয়া একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, পারিশ্রমিক কম হওয়া, অর্থ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, যাতায়াতের ঝামেলা এবং সীমিত সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের চাপ—এসব কারণে পরীক্ষকদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি পরীক্ষককে সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০টি খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এতগুলো খাতা মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বোর্ড থেকে খাতা সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য আলাদা সময় ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও প্রয়োজনীয় ছুটি মেলে না।
অন্যদিকে শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, খাতা মূল্যায়নের সম্মানী আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে এবং যথাসময়ে তা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের মতে, অনেক সময় শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত জটিলতার কারণেই পারিশ্রমিক পেতে বিলম্ব ঘটে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড–এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটি খাতা মূল্যায়নের সম্মানী বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি খাতা না দেওয়ার নীতিও অনুসরণ করা হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ের শিক্ষকরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাদের অভিযোগ, বাস্তবে সম্মানী হাতে পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। এছাড়া খাতা মূল্যায়নের জন্য যে টিএ-ডিএ দেওয়া হয়, সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ছোটখাটো ভুলের জন্য প্রশাসনিক জবাবদিহিতার আশঙ্কাও অনেক শিক্ষককে নিরুৎসাহিত করছে।
এদিকে এসএসসির বাংলা প্রথম পত্রের খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব পাওয়া ২৩৫ জন পরীক্ষক নির্ধারিত সময়েও খাতা সংগ্রহ না করায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরে শিক্ষা বোর্ড বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করে। বোর্ড সূত্র জানায়, একাধিকবার যোগাযোগ ও খুদে বার্তা পাঠানোর পরও তারা খাতা গ্রহণে সাড়া দেননি।
শিক্ষা বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তরপত্র গ্রহণ ও মূল্যায়নে গাফিলতি করলে তা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদেরও পরীক্ষকদের খাতা সংগ্রহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে ওঠা না গেলে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে যেতে পারে।