- ১৭ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
প্রায় দুই দশকের মধ্যে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাসের হার নিয়ে প্রকাশিত ফলাফল নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবার গড় পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। পরীক্ষায় অংশ নিয়েও অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নিজেদের ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের আবেদনে পুনর্মূল্যায়নের জন্য জমা পড়েছে ১৩ লাখের বেশি উত্তরপত্রের আবেদন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। তিনি জানান, এসএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত ১৩ লাখের বেশি খাতা নিয়ে আবেদন জমা হয়েছে। সোমবার রাত ১২টায় আবেদনের সময়সীমা শেষ হবে।
এবারের ফলাফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে আগ্রহও তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেদনের শেষ সময় পর্যন্ত এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ অপশনে যেতে হবে। পরবর্তী ধাপে মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর কোন কোন বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে, তা নির্বাচন করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে দুই পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত ফি বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
ফি দেওয়ার পর আবেদন পোর্টালে ফিরে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন বা বাতিলের সুযোগ থাকলেও একবার টাকা জমা দেওয়ার পর কোনো বিষয় বাতিল করা যাবে না। একইভাবে জমা দেওয়া ফিও ফেরতযোগ্য নয়। ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
চলতি বছরের ফল পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় আগের তুলনায় বড় পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, শুধু নম্বরের হিসাব যাচাই নয়, প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীর উত্তরপত্রও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাপ্য নম্বর দেওয়া না হলে কিংবা নম্বর প্রদানে ভুল থাকলে তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আগের পদ্ধতিতে পুনর্নিরীক্ষণের সময় মূলত ট্যাবুলেশন শিট ও নম্বরের হিসাব যাচাই করা হতো। ফলে উত্তরপত্রে শিক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না, সেটি নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ সীমিত ছিল। এবার সেই জায়গায় পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
ফলে এবারের বিপুল আবেদন শুধু ফলের নম্বর যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উত্তরপত্রেও ভুল বা অসঙ্গতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে। এতে ফল প্রকাশের পর হতাশ শিক্ষার্থীদের অনেকেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন।