- ২৯ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখাসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসে দলটির একটি প্রতিনিধিদল। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার এবং শিশির মোহাম্মদ মনির।
জামায়াতের নেতারা বলছেন, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চাকরি থেকে পদত্যাগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। এ সুযোগ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের নিয়োগসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে দলের অবস্থান কমিশনের কাছে তুলে ধরা হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সুপারিশের বিরোধিতা করে আসছে জামায়াত। দলটির নেতাদের দাবি, এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এর আগে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চাকরি ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, অবসরের পর একজন ‘চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিকে’ ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি তাদের।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এক সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। একই সভায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখাসহ আরও কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
ইসির সুপারিশগুলো পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার এসব প্রস্তাব গ্রহণ করলে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন ও পাসের প্রয়োজন হবে।
তবে বৈঠকে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।