- ০৬ মার্চ, ২০২৬
PNN। নিউজ ডেস্ক ঢাকা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে দেওয়া উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে ডিও (ডেমি-অফিশিয়াল) লেটার পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরে শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্ধিত উৎসব ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ইতোমধ্যে উৎসব ভাতার বিল জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং বিল ৫০ শতাংশ হারে জমা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন মিললে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে। তখন অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ভাতা সমন্বয় করে দেওয়া হতে পারে। সম্ভবত মার্চ মাসের বেতনের সঙ্গে এই অর্থ সমন্বয় করা হবে, অথবা পরবর্তী ঈদুল আজহার সময় থেকে নতুন হারে উৎসব ভাতা কার্যকর হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “গত বুধবার ছিল উৎসব ভাতার বিল জমা দেওয়ার শেষ সময়। তাই এবার ঈদে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগের মতো ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাবেন। তবে বর্ধিত অংশ পরে সমন্বয় করা হতে পারে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ডিও লেটারে বলা হয়েছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতীতে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না থাকায় তাদের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক অবস্থানে নানা বৈষম্য দেখা দিয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৫১ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন। তারা এখন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পান। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ভাতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১৯০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রায় ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ মোট প্রায় ২৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ লাগবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে, উৎসব ভাতা বাড়ানো হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে এবং তা শিক্ষা খাতের সার্বিক মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এজন্য ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।