- ২২ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি সাধারণ বারবার শপের গল্প এখন পুরো দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে দোকান খোলার পর থেকে একের পর এক সংঘাত ও সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন নাপিত মারিও হাবিব। বর্তমানে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি নতুন এক অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।
লেবাননের এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশটি বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের প্রভাব আগের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ২০১৯ সালের ব্যাংকিং সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, ২০২০ সালের বৈরুত বন্দরের বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে লেবাননের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মধ্যে রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই অগ্রগতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আগামী বছর দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে অনেকেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবুও কেউ কেউ দাম না বাড়িয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা ছোট ব্যবসাগুলোর টিকে থাকার লড়াইকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি, বাণিজ্য ও পর্যটন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির নিম্ন আয়ের মানুষদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক বিভাজনও বাড়িয়ে তুলছে। বাস্তুচ্যুতি, কর্মসংস্থান সংকট এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা সমাজে নতুন বিভাজন সৃষ্টি করছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লেবাননের অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।