Friday, May 22, 2026

পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ৫ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো জোটে নতুন অনিশ্চয়তা


ছবিঃ মার্কিন সামরিক মোতায়েন বিষয়ে ট্রাম্পের খামখেয়ালি নীতির কারণে ইউরোপীয় মিত্ররা তাদের প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে অনিশ্চিত (সংগৃহীত । আল জাজিরা । জোনাথন আর্নস্ট/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump পোল্যান্ডে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান, যেখানে তিনি পোল্যান্ডের নতুন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট Karol Nawrocki–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর আগে পোল্যান্ডে পরিকল্পিত একটি সেনা মোতায়েন বাতিল করা হয়েছিল, যা ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরকি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ভালো জোট হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মান এবং যৌথ নিরাপত্তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদেক সিকোরস্কি বলেন, এ সিদ্ধান্তে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি আগের মতোই বজায় থাকবে।

তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবে ইউরোপে সামরিক ব্যয় পুনর্বিবেচনা করছে। এর আগে জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল এবং ইউরোপে সামগ্রিক সেনা উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানা যায়।

এছাড়া প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সম্প্রতি পোল্যান্ডে চার হাজার সেনা মোতায়েনের একটি পূর্বপরিকল্পনা বাতিল করেছিল। এখন নতুন করে পাঁচ হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশই বুঝতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল কী।

ন্যাটো মহাসচিব NATO এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও একই সঙ্গে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বারবার পরিবর্তনশীল নীতির কারণে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন নাজুক, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন