Friday, May 22, 2026

সান ডিয়েগোতে মসজিদে হামলায় নিহতদের স্মরণে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ


ছবিঃ সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলিতে নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য আয়োজিত প্রার্থনা সভায় লোকজন অংশগ্রহণ করছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মাইক ব্লেক/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরে একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত তিনজনের স্মরণে হাজারো মানুষ জানাজা ও শোকসভায় অংশ নিয়েছেন। শহরের একটি পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন নিরাপত্তারক্ষী Amin Abdullah (৫১), Mansour Kaziha (৭৮) এবং Nadir Awad (৫৭)। তারা সবাই সান ডিয়েগোর বৃহত্তম ইসলামিক সেন্টারে হামলার সময় হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত হন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। ইসলামি রীতি অনুযায়ী জানাজা নামাজে অংশগ্রহণকারীরা কাতারে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন এবং আরবি ভাষায় দোয়া পাঠ করেন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত তিনজন হামলার সময় সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করেন, যার ফলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ হামলাকারীদের সঙ্গে প্রথমে মুখোমুখি হন এবং দ্রুত মসজিদের ভেতরে লকডাউন কার্যকর করার নির্দেশ দেন। এতে করে সেখানে থাকা শিক্ষার্থী ও কর্মীরা নিরাপদে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে পাশের এলাকা থেকে আরও দুই ব্যক্তি গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান, তবে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, নিহতদের সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মসজিদের ইমাম তহা হাসান শোকসভায় বলেন, এই ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য গভীর ক্ষতির, তবে একই সঙ্গে এটি ঐক্য ও দৃঢ়তার বার্তা বহন করে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে মানুষ এসে জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

নিহত আমিন আবদুল্লাহর পরিবার জানিয়েছে, তার সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ তাদের গর্বিত করেছে। তার ছেলে বলেছেন, শিশু ও নিরীহ মানুষদের রক্ষার জন্য সামনে দাঁড়িয়ে যাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে।

এই হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ধর্মীয় ঘৃণামূলক অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন