Saturday, November 7, 2026

এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ, ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ কোটি টাকা


ফাইল ছবিঃ বিশ্বব্যাংক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতির এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। নতুন ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি পুরোনো ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য আর্থিক সমন্বয়ের পরও ঋণের মোট পরিমাণ বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২ হাজার ২৬৩ কোটি এবং এডিবির কাছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছেও বাংলাদেশের বড় অঙ্কের দায় রয়েছে। জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কাছে মোট ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি ঋণের বাইরে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।

বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা পরিমাপের কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই হার বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের অনুপাত কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ রপ্তানি থেকে প্রতি ১০০ ডলার আয়ের মধ্যে ১৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঋণের স্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছিল ১১০ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২০১ কোটি ডলারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা প্রায় ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। ফলে ১৪ বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণেরও বেশি।

আগামী বছরগুলোতে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ, বড় কয়েকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ার সময় এগিয়ে আসছে। এসব প্রকল্পের ঋণের বড় অংশের অর্থ জাপানকে পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে নতুন ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি পুরোনো ঋণের দায় সামলানোও আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন