- ০১ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার প্রযুক্তি শিল্পে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন বিতর্কও সৃষ্টি করছে। একদিকে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবায় এআই যুক্ত করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, অন্যদিকে ব্যবহারকারীদের একটি অংশ এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে এআইকে ঘিরে সমর্থন ও সমালোচনার দুই বিপরীতধর্মী প্রবণতা একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান Box-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যারন লেভির একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রধান নির্বাহীর মধ্যে ‘এআই-নির্ভর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস’ বা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এআই থেকে প্রকৃত মূল্য পেতে হলে শুধু তাত্ত্বিক ধারণা নয়, প্রযুক্তিটির বাস্তব ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এআইকে ঘিরে জনমত বেশ বিভক্ত। অনেক ব্যবহারকারী দৈনন্দিন কাজের জন্য এআইভিত্তিক টুল গ্রহণ করলেও অন্যরা এ প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে চাকরির বাজার, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং অনলাইন সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
এ বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সার্চ ইঞ্জিন খাত। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাদের অনুসন্ধান সেবায় আরও বেশি এআই সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, ব্যবহারকারীরা গুগলের প্রতি যে আস্থা তৈরি করেছিলেন মূলত তথ্য অনুসন্ধানের নির্ভরযোগ্যতার কারণে, নতুন পরিবর্তন সেই অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে বিকল্প সার্চ ইঞ্জিনগুলোর প্রতিও ব্যবহারকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদেরকে ‘কম এআই নির্ভর’ বা ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরছে। এতে প্রযুক্তি বাজারে নতুন প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির বিকাশ এখন শুধু সফটওয়্যার শিল্পেই সীমাবদ্ধ নেই; উৎপাদন, পরিবহন, রোবোটিকস ও অবকাঠামো খাতেও এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবা খাতে, যেখানে স্বয়ংক্রিয়তা এবং এআই-নির্ভর উৎপাদনশীলতার কারণে কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছোট কর্মীদল দিয়ে বেশি কাজ করার ধারণাও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা বিশ্বাস করেন, উন্নত এআই ব্যবহারের মাধ্যমে তুলনামূলক কম জনবল দিয়েও বড় প্রতিষ্ঠানের সমপরিমাণ কাজ করা সম্ভব হতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন না করে শুধুমাত্র সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।
প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, এআইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক মূলত প্রযুক্তির বিরোধিতা নয়; বরং এর ব্যবহার, সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে সচেতন আলোচনা। আগামী বছরগুলোতে এআই আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহৃত হলেও ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন এবং কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব মোকাবিলা করা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।