- ১৭ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের জনপ্রিয় অনলাইন ভান্ডার আর্কাইভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি নিম্নমানের ও যাচাইবিহীন গবেষণাপত্রের বিরুদ্ধে নতুন কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। গবেষণাপত্রে বড় ভাষা মডেল (LLM) ব্যবহারের ক্ষেত্রে লেখকদের আরও দায়িত্বশীল করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কম্পিউটার বিজ্ঞান, গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রিপ্রিন্ট গবেষণা প্রকাশের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম আর্কাইভ দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে তৈরি দুর্বল ও ভুল তথ্যে ভরা গবেষণাপত্র জমা পড়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে আর্কাইভ –এর কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান থমাস ডিটারিখ নতুন নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো গবেষণাপত্রে যদি স্পষ্টভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় যে লেখকরা এআই দ্বারা তৈরি তথ্য যাচাই করেননি, তাহলে সেই গবেষণার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, গবেষণাপত্রে ভুল বা কাল্পনিক রেফারেন্স, এআই-এর সঙ্গে কথোপকথনের অংশ কিংবা যাচাইবিহীন কনটেন্ট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট লেখকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমবার এমন অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট লেখককে এক বছরের জন্য আর্কাইভ থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
এছাড়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যতে তাদের গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার আগে তা স্বীকৃত পিয়ার-রিভিউ জার্নাল বা সম্মেলনে গৃহীত হতে হবে।
তবে আর্কাইভ সরাসরি এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। বরং গবেষণাপত্রে ব্যবহৃত সব তথ্যের দায় লেখকদেরই নিতে হবে বলে স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ, এআই থেকে নেওয়া ভুল তথ্য, পক্ষপাতমূলক বক্তব্য, চৌর্যবৃত্তি বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
থমাস ডিটারিখ জানান, এই নীতি ‘ওয়ান-স্ট্রাইক’ ভিত্তিতে কার্যকর হবে। তবে কোনো লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে মডারেটররা বিষয়টি যাচাই করবেন এবং বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ প্রমাণ নিশ্চিত করবে। প্রয়োজনে অভিযুক্ত লেখক আপিলও করতে পারবেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় এআই-সৃষ্ট ভুয়া উদ্ধৃতি ও রেফারেন্সের ব্যবহার বেড়েছে। বিষয়টি গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈজ্ঞানিক মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।