- ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পির আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চারজনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি ১৮০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ এবং কারা এতে জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ দরবার এলাকায় অবস্থান নেয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে তা সহিংস রূপ নেয়।
এ সময় শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরবারে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলার একপর্যায়ে পির আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর রাজাপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঘটনার পর প্রথমদিকে নিহতের পরিবার মামলা না করার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।